Saturday, May 13, 2017

What is Camera

Camera is a device for recording visual images in the form of photographs, film, or video signals.
Iphone External Lence

প্রথমেই একটা প্রশ্ন ? ক্যামেরা জিনিসটা আসলে কি করে? ধুর মিয়া এতো একদম সিম্পলক্যামেরা তো শুধু ছবি তুলে আমি আবার টাসকী খাই কথা না বাড়িয়ে দুই নাম্বার প্রশ্নে চলে যাই আচ্ছা প্রখর রোদে যদি ছবি তুলেন তাহলে কি হয়? গোমড়া মুখে উত্তর আসে বেশিরভাগ সময় ছবি জ্বলে যায় ওকে শেষ একটা প্রশ্ন তাহলে যদি অন্ধকার রাতে ফ্লাস ছাড়া ছবি তুলেন আপনার ক্যামেরা দিয়ে (হোক সেটা মোবাইলের ক্যামেরা) তবে কি আসবে? আরো একটু গোমড়া মুখে উত্তরটা মিলে অন্ধকারই আসবে।এবার হিসাবটা মিলান। যদি ক্যামেরা জিনিসটা ছবিই তুলে এবং অন্ধকারে অন্ধকার আসে তবে কেন প্রখর রোদ্রে ছবি না এসে ওটা জ্বলে যায়? কি মাথায় প্যাঁচ লেগে গেল। আবারো গান ধরি আলো আমার আলো ওগো..

ঘুরে আসি ফিজিক্সে। ক্লাস নাইন-টেনে ফিজিক্স যাদের সাবজেক্ট ছিল অর্থা যারা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন তারা নিশ্চয়ই জানেন পৃথিবীতে যে কোন বস্তু দুই রকম। হয় দীপ্তমান নতুবা দীপ্তিহীন। যে সকল বস্তুর নিজস্ব আলো আছে অর্থা যারা আলো ছড়ায় তারা হল দীপ্তমান।এই যেমন সূর্য মামা। যার আলোতে আলোকিত হয় সমগ্র ধরা। আর যাদের কোন আলো নাই তারা দীপ্তিহীন। যেমন আমরা মানুষ। আমাদের শরীর থেকে কোন প্রকার আলো বের হয়না বা আমাদের নিজস্ব কোন আলো নেই। আর তাই অন্ধকারে আমরা কাউকে দেখতে পাইনা

সূর্য বা আর্টিফিশিয়াল লাইট (বৈদ্যুতিক বাল্ব বা ফ্লাস অথবা অন্য কিছু) যখন আলো ছড়ায় তখন সেই আলো আমাদের শরীরে অথবা অন্য কোন বস্তুর উপর লেগে তা আবার বিচ্ছুরিত হয়। আমরা দেখতে পাই। হ্যাঁ আমরা বিচ্ছুরিত আলোটাই দেখতে পাই (নিচের ছবির মত) ক্যামেরার চোখও বা লেন্সও সেটাই দেখে

ছবি বিশ্লেষন: উপরের ছবিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রথমে সূর্য থেকে আলো এসে পেন্সিলে পড়ছে তারপর ওই বস্তুর উপর থেকে ওই আলো এসে আমাদের চোখে ধরা পড়েছে।মাথায় প্যাঁচলাগা সেই প্রশ্নের  উত্তরটা এবার দিয়ে দেই। প্রখর রোদে আমরা যখন ছবি তুলি তখন কি হয়  জানেন। হ্যাঁ অতিরিক্ত সেই বিচ্ছুরিত আলো এসে ছবিটা নষ্ট করে দেয় বা জ্বালিয়ে দেয়। আমরা বুঝলাম ছবি তাহলে আলো। আরো সহজ ভাষায় বিচ্ছুরিত আলো

তাহলে নরমাল ক্যামেরা আর DSLR ক্যামেরার মধ্যে পার্থক্য কি? কেনইবা আমাকে এত দাম দিয়ে DSLR কিনতে হবে? হ্যাঁ নরমাল ক্যামেরা দিয়ে আপনি ওই বিচ্ছুরিত আলোটাকে কন্ট্রোল করতে পারবেননা। আলো তার ইচ্ছেমত সেন্সরে প্রবেশ করবে এবং অতিরিক্ত এই আলোয় আপনার ছবি আপনার ভাষায় জ্বলে যাবে। কিন্তু DSLR ক্যামেরা দিয়ে বিচ্ছুরিত ওই আলোর পরিমান (Aperture), আলো ধারনের সময় (Shutter) নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন।অতিরিক্ত আলোয় আপনার ছবি কখনোই জ্বলে যাবেনা


ডি.এস.এল.আর কেনার আগে

ডি.এস.এল.আর ক্যামেরা কিনবেন। থামুন। হ্যাঁ আপনাকেই বলছি। কেন DSLR কিনবেন? সৌখিন ফটোগ্রাফারদের কাছে এই প্রশ্নের কোন উত্তর নাই জানি। হয়তো বলবেন ছবি তোলা শেখার জন্য। আপনাকেই বলছি আপনি ভুল সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। ছবি তোলার জন্য DSLR নয় আপনার মোবাইলের ক্যামেরা বা নরমাল ক্যামেরাই যথেষ্ট। যদি আপনি পয়সাওয়ালা হোন তবে আমার আপত্তি নাই। আমার পরামর্শ হচ্ছে প্রথমে মোবাইল দিয়ে বা নরমাল ক্যামেরা দিয়েই আলোটাকে ধারন করুন। বুঝতে চেষ্টা করুন। প্রকৃতিটাকে চিনতে শিখুন। আলো কিন্তু প্রকৃতিতেই থাকে। আপনি যখন আলোটাকে বুঝতে পারবেন এবং প্রকৃতিতে আলোর খেলা ধরতে পারবেন তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিন

ক্যামেরার বেসিক চালনা শেখার জন্য প্রথমে একটা সেকেন্ডহ্যান্ড DSLR ক্যামেরা নিতে পারেন। তারপর শিখতে শিখতে আপনার রিকোয়ারমেন্টগুলো আপনিই ধরে ফেলতে পারবেন। প্রথমেই ৫০ হাজার টাকা খরচ করে অন্যের কথা শুনে ক্যামেরা কেনার কোন মানে হয়না। যখন নিজেকে বুঝতে পারবেন তখন মনে হবে এটা ছিল একটা ভুল ডিসিশান

আরেকটা সমস্যা লেগে থাকে নাইকন আর ক্যাননের মাঝে। কোনটা কিনবেন? ওই যে আগেই বললাম নিজেকে চিনতে হবে। আপনি যদি শুধু ফটো তুলতে চান তবে নাইকন আর ফটো এবং ভিডিও দুটোই ধারন করতে চাইলে ক্যানন। মূলত সহজ ভাষায় স্টিল ছবির জন্য নাইকন আর ভিডিওর জন্য ক্যানন। অনেকেই ফটো এবং ভিডিও দুটোর জন্য অনেক টাকা খরচ করে ক্যানন কিনে। আফসোস যদিও তারা পরে আর কখনো ভিডিও করেনা
ক্যামেরা শব্দটি প্রাচীন শব্দ কামারা থেকে আগত কামারা বলতে বদ্ধ ঘরকেই বুঝানো হয় ক্যামেরাটাকে একটা বদ্ধ ঘরের কথা চিন্তা করে ৎকালিন ক্যামেরাবিদগণ এর নাম দিয়ে বসলেন কামারা ক্যামেরা নিয়ে ইতিহাস পড়ছিল সাইমুম আলোর পরিমান (অ্যাপারচার) আর আলো ধারণের সময় (সাটার স্পিড) বিষয়গুলো কিছুতেই তার মাথায় ঢুকছিলনা অনেকক্ষন ধরে পড়ার পর সামইমুম ভাবলো মাথাটা এবার একটু ফ্রেস করা দরকার আর তাই পড়ার টেবিল থেকে উঠে গিয়ে সে বাসার স্টোর রুমে চলে গেল এই রুমটা তার ভীষন পছন্দের যখন কোন সমস্যায় পড়ে বা কোন কিছু বুঝতে পারেনা তখন সে এই রুমটায় একা বসেথাকেঅনেকটা বদ্ধঘরের মতো  স্টোর রুমে গিয়ে একটা ভাঙ্গা টেবিলের উপর বসে রইলো সে। ইচ্ছে করেই রুমের কোন লাইট জ্বালালোনা। মিনিট ত্রিশেক পর হঠা সাইমুমের মায়ের স্টোর রুমে আগমন।এসেই তিনি প্রথমে ২৫ ওয়াটের বাল্বটা জ্বালালেন। অন্ধকার রুমে ২৫ ওয়াট বাল্বের আলোতে সাইমুমের মুখ দেখে মায়ের মন বিচলিত হয়ে উঠলো। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি ২৫ ওয়াটের লাইটা বন্ধ করে ১০০ ওয়াটের বাল্বটা জ্বালিয়ে সাইমুমকে দেখতে লাগলেন।  ইউরেকা বলে লাফ দিয়ে উঠলো সাইমুম। এক দৌড় দিযে সে আবার পড়ার টেবিলে চলে গেল।মায়ের ভাবনার ইতি ঘটলো



আলোর পরিমান বা অ্যাপারচার:

ক্যামেরার ল্যান্সের মাথায় নিচের ছবিটার মতো একটি কঠিন পদার্থ থাকে। জ্বী হ্যাঁ জনাব কঠিন পদার্থ। এই পদার্থটির কাজ কি জানেন? আসলে এর কোন কাজ নাই। এর কাজ হল  ক্যামেরার অপারেটরের ইচ্ছা অনুযায়ী ছোট বা বড় হওয়া। যখন সে ছোট হয় তখন ক্যামেরা ভিতর সাইমুমের ওই স্টোর রুমের ২৫ ওয়াট পরিমান আলো ঢুকে। আবার যখন বড় হয় তখন তা দিয়ে ১০০ ওয়াট পরিমান আলো ঢুকে
তো আমরা কখন তাকে ছোট বড় করবো প্রশ্নটা থেকে যায়। বেসিক ফটোগ্রাফী কোর্স প্রথম পর্ব - বিচ্ছুরিত আলোতে  আমরা জেনেছিলাম অতিরিক্ত আলো এসে আমাদের ছবি নষ্ট করে দেয়। তো ব্যপারটা সিম্পল। যখন আলো বেশি তখন আমরা তাকে ছোট করবো। আবার আলো যখন কম থাকবে তখন তাকে বড় করে ছবি তুলবো। এখানে আরো কিছু ব্যাপার যদিও থেকে যায় কিন্তু আমাদের এখন আর তা না জানলেই হবে। আরো একটা মজার বিষয় আমাদের জেনে রাখা দরকার। অ্যাপারচারের মান কমালে কিন্তু ওই মুখটা বড় হয় আবার মান যখন বাড়াবো তখন মুখটা ছোট হয়ে যায়। উল্টাপাল্টা সিক্সটি নাই আরকি। যত ঘর্জে তত বর্ষেনা
 

ছবি বিশ্লেষন: উপরের ছবিতে অ্যাপারচারের বিভিন্ন রুপ দেখা যাচ্ছে। প্রথমেই বলে রাখা ভাল অ্যাপাচারের মান f দিয়ে প্রকাশ করা হয়ে থাকেছবিতে লক্ষ্য করুন f এর মান যত কম অ্যাপারচারের মুখ কিন্তু তত বড় বা খুলা
বাজারে সাইমুমদের একটা দোকান আছে। ওখানে সাইমুমের বাবাই বসেন। সেদিন রাত্রে আকাশের মন খুব খারাপ ছিল। সাইমুমের বাবা সব কিছু বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসলেন। বাড়িতে এসে পড়ার টেবিলে সাইমুমকে দেখে তিনি খুশি হয়ে ছেলের কাছে গেলেন। এত তাড়তাড়ি বাবাকে দেখে সাইমুম তো অবাক। প্রশ্ন করে বসলো বাবা আজ তুমি এত তাড়াতাড়ি চলে আসলে। বাবা উত্তর দিলেন আকাশের অবস্থা খুব খারাপ আর তাই দ্রুত সাটারটা লাগিয়ে চলে আসলাম রে। সাইমুম এবার মনে মনে ইউরেকা বলে উঠলো
 


আলো ধারনের সময় বা সাটার স্পিড:

সাইমুমের বাবার দোকানের সাটারের মত ক্যামেরারও একটি সাটার থাকে। ওটা অবশ্য লেন্সে নয় ক্যামেরার বডিতে থাকে। এই সাটারের কাজ হল আলো ধারনের সময় নির্ধারন করা। অর্থা আপনি যদি আস্তে আস্তে বা কম স্পিডে সাটারকে রাখেন তবে ক্যামেরার সেন্সরে বেশি আলো ঢুকবে।বুঝা যায়নি তাইতো। ওকে তো ক্যামেরার সাটার বাদ। পড়েনা চোখের পলক, কি তোমার রুপের ঝলক.. গানটা দিয়ে না হয় আমরা আবার নতুন করে শুরু করি।চোখের পাতাকে সাটার হিসাবে কল্পনা করতে দোষ কি।চোখের পাতা না ফেলে সূর্যি মামার দিকে তাকান তো দেখি। আরে মিয়া কি বলেন চোখ জ্বলে যায় তো। জ্বী চোখ তো জ্বলেই যাবে। ওই যে বেশি সময় ধরে আলো ঢুকছে
প্রশ্ন হল কখন আলো কম সময় (সাটার স্পীড বেশি) বা আলো বেশি সময় (সাটার স্পীড কম)থাকবে। নিখুত ছবির জন্য সাটার স্পীড যত বেশি তত ভাল। আবার একটু টেকনিক্যাল ছবি যেমন মাঝে মাঝে আমরা দেখি গাড়ি যাচ্ছে আবার গাড়িটাকে গতিশীল মনে হচ্ছে (নিচের ছবিটার মত) এই রকম ছবির জন্য সাটার স্পীড কম রাখতে হবে। আরো কিছু ব্যপার আছে। এই যেমন অন্ধকার রাতে আমরা যতক্ষন সাটার খুলা রাখবো ততক্ষন কিন্তু আলো ঢুকবোযেহেতু অন্ধকার তাই আমাদের আলোর প্রয়োজন।সুতরাং সাটার স্পীড কমালে আমাদেরই লাভ
ক্যামেরায় সাটার স্পীডের মানটা দেওয়া থাকে সেকেন্ডের হিসাবে। সাটারস্পীড যদি আমরা সেকেন্ড দিয়ে রাখি তার মানে হল সেকেন্ড সময় আমাদের ক্যামেরার সাটার খুলা থাকবে। অর্থা সেকেন্ড সময়ের আলো ঢুকবে ক্যামেরাতে।তবে সমস্যা এক জায়গায়। যেহেতু আমরা ক্যামেরা হাতে নিয়ে ছবি তুলছি সুতরাং সাটার স্পীড কম হলে হাত কাপঁতে পারে। আর যদি হাত কাপে তবে বুঝতেই পারেন হাতের সাথে তোলা ছবিটাও অবশ্যই কাপঁবে। হাতের এই কাপঁকাপি বন্ধের জন্য আমাদের ব্যবহার করতে হবে মনোপড বা ট্রাইপড
ছবি বিশ্লেষন: এটা একটা কম সাটার স্পীডে তুলা ছবি। সাটার স্পীড কম থাকায় ছবিটাকে গতিশীল মনে হচ্ছে। যদি একই ছবি আমরা বেশি সাটার স্পীডে তুলতাম তবে সাবজেক্ট (সাইকেলওয়ালা) এর গতিটা ছবিতে দেখা যেত নাআপনি যদি অ্যাপাচারের মান কমান (অ্যাপচারের মুখ বড় হবে আলো বেশি ঢুকবে) তবে সাটারস্পীড অটোমেটিক্যালী বেড়ে যাবে (আলো ধারনের সময় কমে যাবে) অর্থা একটা আরেকটার বিপরীত।কেন বিপরীত সেটা ভেবে বের করতে হবে আপনাকে
  

No comments:

Post a Comment